উৎসঃ ইন্টারনেট

অশ্বগন্ধা Solanales বর্গের Solanaceae পরিবারের একটি ভেষজ উদ্ভিদ। এই গাছের পাতা সেদ্ধ করলে ঘোড়ার মূত্রের মতো গন্ধ বেরোয় বলে এর এরকম নামকরন। এর বৈজ্ঞানিক নাম Withania somnifera, এর অন্যান্য নামের মধ্যে বলদা, বাজিকরি, Indian ginseng, Poison gooseberry, Winter cherry ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। শাখাবহুল এই গাছটি সাধারণত দুই-আড়াই হাত উঁচু হয়। এতে ছোট ছোট মটরের মতো ফল হয় যা পাকলে কমলার মতো কিছুটা লাল বর্ন ধারণ করে। এর ফুল ছোট, সবুজ এবং ঘণ্টা আকৃতির। বসন্তকালে ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, চীন এবং ইয়েমেনের শুষ্ক মাটিতে এর উৎপাদন ভালো হয়। অশ্বগন্ধার মূল, পাতা, ফুল, ফল, ছাল, ডাল সবই ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এ উদ্ভিদ থেকে উৎপাদিত পাউডার, শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় আয়ুর্বেদে ঔষধ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এ গাছের রস শক্তিবর্ধক যা পুরুষের শুক্রাণু বাড়াতে বেশ কার্যকর। অশ্বগন্ধার মূল ও পাতা স্নায়ুবিক বিভিন্ন রোগে উপশম আনে। এর পাতা, দুধ ও ঘিয়ের সঙ্গে ফুটিয়ে খেলে শরীরে বল পাওয়া যায়। ইনসমনিয়া বা অনিদ্রায় ভুগলে অশ্বগন্ধা উত্তম ওষুধ হিসাবে কার্যকর । ভালো ঘুমের জন্য অশ্বগন্ধা গুঁড়ো চিনিসহ ঘুমানোর আগে খাওয়া হয়। সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি পেতেও অশ্বগন্ধার মূল গুঁড়ো করে খাওয়া হয়। ক্রনিক ব্রংকাইটিসের ক্ষেত্রে অশ্বগন্ধা একটি কার্যকর ওষধু। অশ্বগন্ধার মূল অন্তর্ধুমে পুড়িয়ে (ছোট মাটির হাঁড়িতে মূলগুলো ভরে সরা দিয়ে ঢেকে পুনঃমাটি লেপে শুকিয়ে ঘুটের আগুনে পুড়ে নিতে হয়। আগুন নিভে গেলে হাঁড়ি থেকে মূলগুলো বের করে গুঁড়ো করে নিতে হয়) ভালো করে গুঁড়িয়ে নিয়ে আধ গ্রাম মাত্রায় একটু মধুসহ চেটে খেলে ক্রনিক ব্রংকাইটিসে উপকার হয়। অশ্বগন্ধা মানসিক ও শারীরিক দুর্বলতা, যেমন মাথা ঝিমঝিম করে ওঠা, সংজ্ঞাহীনতা, অবসাদ প্রভৃতি দূর করে মনোযোগ বাড়ায় এবং ক্লান্তি দূর করে সঞ্জীবনী শক্তি পুনরুদ্ধার করে।

উৎসঃ ইন্টারনেট

অম্বল, অজীর্ন, পেট ফাঁপা এবং পেটের ব্যথা নিরাময় সহ যকৃতের জন্য ভীষণ উপকারী অশ্বগন্ধার ফল। চোখের ব্যথা দূর করতেও অশ্বগন্ধা বিশেষ উপকারী। তবে সম্প্রতিকালে বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় ভেষজ ওষুধ অশ্বগন্ধা বেশ কার্যকর, এতে করোনাভাইরাস রোধ করার রাসায়নিক উপাদান রয়েছে বলে দাবি করেছেন ইন্ডিয়ান ইনস্টিউট অব টেকনোলোজির (আইআইটি) একদল গবেষক। আইআইটি দিল্লি এবং জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির যৌথ গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। এ বিষয়ে গত ১৯ মে সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

উৎসঃ ইন্টারনেট

গবেষকদের দাবি, অশ্বগন্ধার মধ্যে ‘উইথানন’ নামের একটি রাসায়নিক রয়েছে, যেটি কোভিড-১৯ এর এনজাইমের বিস্তার রোধ করতে সাহায্য করে। অর্থাৎ মানুষের শরীরে করোনার সংক্রমিত হওয়া আর ‘ভাইরাল লোড’ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে রোধ করে এই রাসায়নিক। আইআইটি দিল্লি থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সারস-কোভিড-২ ভাইরাসের জিনোম এবং তার কাঠামো নিয়ে ড্রাগ ডিজাইনিং সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন নতুন তথ্য নিয়ে তার পরীক্ষামূলক ব্যবহারও হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরেই অশ্বগন্ধা এবং প্রোপলিসের প্রাকৃতিক যে উপাদান রয়েছে তা নিয়ে কাজ চলছিল। সেখানেই অশ্বগন্ধার মধ্যে বেশ কিছু বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদানের খোঁজ পাওয়া গেছে, যা কোভিড সারাতে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘গবেষকদের মূল উদ্দেশ্য ছিল সারস-কোভিড-২ উৎসেচক দিয়ে ভাইরাসের মেইন প্রোটিয়েজকে ভেঙে দেওয়া যাতে তা মানব শরীরে নিজেদের বৃদ্ধি না ঘটাতে পারে। সেই কাজটি করতে গিয়েই অশ্বগন্ধায় পাওয়া যায় ‘উইথানন’ নামের একটি প্রাকৃতিক উপাদান এবং ক্যাফেইক অ্যাসিড পেন্টাথাইল এস্টার যা এই প্রোটিনের সঙ্গে বিক্রিয়ায় তার কার্যকারিতাকে হ্রাস করতে সাহায্য করছে।

উৎসঃ ইন্টারনেট

DBT-AIST International Laboratory for Advanced Biomedicine এর এই গবেষণা দলের প্রধান Professor D Sundar বলেন তাদের গবেষণা Journal of Biomolecular Structure and Dynamics থেকে প্রকাশনার জন্য গৃহীত হয়েছে এবং খুব শিঘ্রই তা প্রকাশিত হবে। সুতরাং COVID-19 নিরাময়ে অশ্বগন্ধা কতটা কার্যকরী তার প্রমাণ পাওয়াটা এখন সময়ের দাবি।

তথ্যসূত্রঃ
1. Moynul  Islam  et  al.  (2020).  A  Survey  of  Medicinal  Plants  Used  by  Traditional  Healers  and  Indigenous  People  of  Shariatpur District, Bangladesh. J.  of Advanced  Botany  and Zoology, V7I4.05.  DOI:  10.5281/zenodo.3841153;
2. Withania somnifera (L.) Dunal”। PROTA (Plant Resources of Tropical Africa / Ressources végétales de l’Afrique tropicale) [Online Database]। Gurib-Fakim A. and Schmelzer G. H.
3. “Withania somnifera” G.R.I.N.(ARS), USDA;  Ashwagandha”। Drugs.com (২০০৯); 
4. “Ashwagandha”। MedlinePlus, US National Library of Medicine; 
5. Pandit, S.; Chang, K.-W. (২০১৩)। “Effects of Withania somnifera on the growth and virulence properties of Streptococcus mutans and Streptococcus sobrinus at sub-MIC levels”: 1–8। doi:10.1016/j.anaerobe.2012.10.007। PMID 23142795; 
6. Hugh Scott & Kenneth Mason, Western Arabia and the Red Sea, Naval Intelligence Division: London 1946, p. 597 আইএসবিএন ০-৭১০৩-১০৩৪-X
7. Deni., Bown, (১৯৯৫)। Encyclopedia of herbs & their uses। RD Press. আইএসবিএন 0888503342; 
8. Pati, P. K.; Sharma, M. (২০০৯)। “Studies on leaf spot disease of Withania somnifera and its impact on secondary metabolites”: 432–437। doi:10.1007/s12088-008-0053-y। PMID 23100743;
9. Sharma, A.; Pati, P. K. (২০১১)। “First report of Withania somnifera (L.) Dunal, as a New Host of Cowbug (Oxyrachis tarandus, Fab.) In Plains of Punjab, Northern India” (pdf): 1344–1346। আইএসএসএন 1818-4952;
10. Sharma, A.; Pati, P. K. (২০১২)। “First record of the carmine spider mite,Tetranychus urticae, infesting Withania somnifera in India” (pdf): 1–4। doi:10.1673/031.012.5001। PMID 22970740। আইএসএসএন 1536-2442;
11. Sharma, A.; Pati, P. K. (২০১৩)। “First record of Ashwagandha as a new host to the invasive mealybug (Phenacoccus solenopsis Tinsley) in India”: 59–62। doi:10.3157/021.123.0114।
12. “Ashwagandha”। Memorial Sloan Kettering Cancer Center;
External links: https://indianexpress.com/article/india/ashwagandha-compound-may-be-effective-anti-covid-drug-study-by-iit-d-japans-aist-6416445/lite/ https://www.newindianexpress.com/cities/delhi/2020/may/19/ashwagandha-could-help-fight-covid-19-says-iit-delhi-2145191.html

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here